Powered By Blogger

কিছু খুঁজতে এখানে লিখুন

বৃহস্পতিবার, ৮ মার্চ, ২০১২

গল্পটি কাউকে উদ্দেশ্য করে এখানে দেওয়া, যে খুব বেশী Special আমার কাছে।


ফুলের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে মাথা চুলকাচ্ছে আয়ান। বুঝতে পারছে না যে সে কয়টা ফুল কিনবে। অনেক দিন ধরেই আয়ান লক্ষ্য করছে গুরুত্বপূর্ণ কাজ এর সময়ই তার মাথা কাজ করা বন্ধ করে দেয়। আজ যেমন তার রাজকন্যা ওকে সুযোগ দিয়েছে মনের কথা বলার আর আজকেই আয়ান বুঝতে পারছে না কয়টা ফুল নিয়ে যাবে। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে মাথা চুলকানোর পর সিদ্ধান্ত নিল ৩৬টা গোলাপ ফুল নিয়ে যাবে। ১৮টা সাদা আর ১৮টা লাল। কারন আজকের দিন নিয়ে ৩বছর = ৩৬ মাস হলো ওর রাজকন্যা কে দেখার ফুলওয়ালা ফুল দিতে দিতে বললো, আপনার ভাগ্য ভাল যে যত গুলা গোলাপ দরকার ছিল ততো গুলাই আছে, না হলে ২১শে ফেব্রুয়ারির দিন ফুল সহজে পাওয়ার কথা ছিল না'' রিক্সাই উঠতে উঠতে আয়ান ভাবতে লাগলো সত্ত্যি এসব যা হচ্ছে সম্পূর্ণই তার ভাগ্যের জোরে, তার ভাগ্যে যদি না লেখা থাকতো হয়তো ৩ বছর আগে অদিতি কে সেই প্রথম দেখতো না। সে দিন এর কথা মনে পড়লে আজো ভেবে অবাক হয় আয়ান। সম্পূর্ণ ভাগ্যক্রমে অদিতি কে প্রথম দেখা। সে দিন অনিচ্ছাতেই বাড়ি থেকে বের হয়েছিল আয়ান। আর বেশিক্ষণ আড্ডাও দেয়নি সেদিন। বাড়ি যাবে এমন সময় সাব্বির নতুন বাইক নিয়ে আসে।

একরকম সাব্বিরের জোরাজুরিতেই বাইক নিয়ে ঘুরতে যেতে রাজি হয় সে। আর ঘুরতে ঘুরতে, অভ্যাসবশত সাব্বির একটি মেয়ে কে দেখে বলে ওঠে, আয়ান মেয়েটা সুন্দর আছে তাই না? আয়ানের অবশ্য সুন্দর মেয়েদের থেকে এলার্জি। সুন্দর মেয়ে দেখলেই সে ২০০ হাত দূরে চলে যেত। ওর দৃঢ় বিশাস ছিল যে মেয়েরা সুন্দর তারাই অহংকারি। আয়ান একবারের বেশি কোনো মেয়ের দিকে তাকাতো না আর অচেনা মেয়েদের কোনোদিন সুন্দর বলছে এটা অনেকটা অসম্ভব কথা। কিন্তু সেদিন প্রথম আয়ান একটি মেয়েকে ২ বার দেখেছিল। আর এই প্রথম সে কোনো মেয়ে কে সুন্দর বলেছিল। মেয়েটি অদিতি ছিল। অন্য সব অচেনাদের মত অদিতিও হয়ত হারিয়ে যেত কিন্তু আয়ানের ভাগ্যে অদিতির সাথে আরেকবার দেখা হওয়াটা লেখা ছিল। সেদিন ২২এ ফেব্রুয়ারি স্কুলে স্যারকে খোঁজার জন্য ক্লাস থেকে বের হয়েছিল আয়ান। আর হঁঠাত্‍তার চোখ যায় পার্ক এ থাকা একটি মেয়ের দিকে। ভাল করে দেখে আয়ান কিছুটা অবাক হয়। কারন সেই মেয়েটি আদিতি ছিল। আয়ান বিশ্বাস করতে পারছিল না নিজের চোখকে। তারপর যখন সবাই জানতে পারে আয়ানের সেই সুন্দরী মেয়ে স্কুলে, সবাই ভীর করে তাকে দেখতে। তখনো অদিতি এসবের কিছু জানতো না।

এরপর দিন ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম অদিতি স্কুলে ক্লাস করে। আয়ান তখনও মেয়েটির নামটাও ভাল মতো জানতো না, না জানতো কোন ক্লাসে। একদিন 9 এর ক্লাসে ক্লাস করতে তাকে দেখে, এর পর জানতে পারে সে নতুন ভর্তি। আয়ানের বন্ধুরা আয়ানকে মেয়েটি নিয়ে ফাজলামি মজা করতো, আয়ানও মজা করতো বিষয়টা নিয়ে।কখনোই আয়ান মেয়েটাকে সিরিয়াসলি নিতে চায়নি শুধুই ফাজলামি রাখতে চেয়েছিল এটা। কারন আয়ানের ধারনা ছিল ভালবাসা তার দ্বারা সম্ভব না। কিন্তু বিপদ আর ভালবাসা কি কখনো নিজের ইচ্ছেই হয়
! আর ঠিক তেমনি ধীরে ধীরে আয়ান লক্ষ্য করলো মেয়েটিকে দেখলে সে কেমন জানি হয়ে যায় হঠাত্করেই আয়ান বুঝতে পারলো ব্যাপারটা শুধুই ফাজলামি নেই , সে মেয়েটার প্রতি খুব দুর্বল হয়ে গেছে। আয়ান নিজেই নিজের এই অবস্থা দেখে অবাক হয়েছিল। আয়ানের তখন S.S.C এর টেস্ট পরীক্ষা চলছিলো আর প্রত্যেক পরীক্ষার পর আদিতিকে দেখার জন্যে হাজারো পাগলামী করতো সে। আর আজো সে তার ভালবাসার জন্যে হাজারো পাগলামী করে যাচ্ছে। কিভাবে আয়ানের এই শুধুই ফাজলামি থেকে ভাললাগা আর তা থেকে ভালবাসা হয়ে গেল তা আজও নিজেই জানে না সে। আজ আয়ান শুধু জানে সে অদিতি কে ভালবাসে খুব খুব ভালবাসে, অনেক বেশি ভালবাসে.

ভাবতে ভাবতে কখন যে পার্কে পৌছে গেছে সে দিকে খেয়াল নেই আয়ানের। রিক্সাওয়ালাকে ভাড়া দিয়ে পার্কে ঢুকতে ঢুকতে সে মনে মনে ঠিক করলো, আজ অদিতি কে কনো প্রত্যাশা থেকে বলবে না ভালবাসি, শুধু বলে যাবে মনের অনুভূতি গুলো। সে জানে যে আজ অদিতি কোনো উত্তর দিবে না, তবুও সে তার মনের কথা বলে যাবে...


পার্কে পা দিতেই সব কিছু অন্যরকম লাগছে অদিতির। ঐ তো গাছের নিচের বেঞ্চটাতে বসে আছে আয়ান এক গুচ্ছ ফুল নিয়ে। অদিতি আজো ভেবে পায় না , কেন আয়ান কে এতবার ইগনোর করার পরও আয়ান তাকে এত ভালবাসে। অদিতি ভাবছে ৩ বছর আগে কিভাবে সবার আগেই আয়ান ওকে দেখেছিল, যখন কেউ ওকে চিনতো না, তখন থেকে কিভাবে আয়ানের কাছেই ও এত পরিচিত লেগেছিল অদিতির মনে মনে ভয় লাগছে, আজ আয়ান যখন তার মনের সবকথা গুলো বলবে সরাসরি তখন কি হবে, সে আগেই আয়ানকে বলেছে কোনো উত্তর দিবে না শুধুই শুনবে। অদিতি শুধু আগের কথা গুলো ভাবছে, কেন এত জনের মাঝে এক মাত্র আয়ানই থেমে থাকলো তার জন্যে।

কিন্তু এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর পাচ্ছে না সে। আদিতি আয়ানের দিকে আগাচ্ছে আর তখন সে নিজেকে বলছে ভাগ্য তার সাথে কি খেলাটা খেলছে? ?

১০ বছর পর
....

ফুলের দোকানের সামনে গাড়ি থামাতেই আয়ানের পুরানো স্মৃতিগুলো চোখের সামনে ভেসে উঠলো। আজো সে ফুল কিনতে এসেছে অদিতির জন্য, আজ ২১শে ফেব্রুয়ারী, ফুল নিয়ে আজো সেই পার্কে যাবে সে। কিন্তু ১০ বছর আগে সে জানতো অদিতি আসবে কিন্তু আজ সে জানে না আদিতি আসবে কি না। আয়ান তার হাতে অদিতির দেয়া সেই চিরকুটটা নেড়েচেড়ে দেখছে। অদিতি যাওয়ার আগে এই চিরকুট দিয়ে বলেছিল,"একবার ভুল করে নিজের মনের অজান্তে তোমায় ভালবেসেছিলাম, কিন্তু এই অনুভুতিটা আগাতে চাই নি, আমার কাছে নিজের পরিবারটা আগে, তারপর এইসব, তাই অনুভূতিটা দমন করেছি। আর তোমায় এখনো ভালবাসতে চাই না। আর কথা মতো উত্তরটাও দিতে পারবো না" সে দিন আয়ানও আদিতি কে বলেছিল,"তুমি উত্তর দাও আর না দাও আমি তোমার উত্তরের অপেক্ষা করবো। প্রতিবছর এই দিন এখানে আসবো" আয়ান তার কথা রেখেছে, প্রতি বছর এই দিন সে আসে পার্কে এক গুচ্ছ লালসাদা গোলাপ নিয়ে, আর আজো যাচ্ছে সে, কিন্তু এইটা হয়তো আয়ানের শেষ যাওয়া, কারন বাবা-মা এর অসম্ভব চাপে তাদের খুশির জন্য আয়ান বিয়ে করতে রাজি হয়েছে


তাই আজ সে ঠিক করেছে শেষবারের মতো অপেক্ষা করবে আদিতির উত্তরের
.আর যদি এবারো অদিতি না আসে সে ফুল রেখে দিয়ে চলে আসবে আর ভেবে নিবে ওর ভাগ্যে আদিতি ছিল না আয়ানের ভাবনার ঘোর কাটলো ফুলওয়ালার ডাকে ফুলওয়ালা কে টাকা দিয়ে সে ছুটলো পার্কে, তার শেষ প্রহরের উদ্দেশ্যে।



অদিতি বুঝছে না সে কি করছে। তার বারবার মনে হচ্ছে আয়ান এর প্রতি অনুভতি গুলো শেষ করে দেওয়া কি তার ঠিক ছিল। আজ আদিতির নিজের জীবনের ওপর আক্ষেপ করতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু করার কিছু নেই দোষটা তো ওর নিজেরি। আদিতি মুখ নিচে করে চুপচাপ এসব ভাবছে। পাশে থাকা তার বাবা মার তার জন্য পছন্দ করা ছেলেটি কি যেন বলছে। কিছুই তার মাথার মাঝে ঢুকছে না। শুধু আয়ানের কথা ঘুরছে। অদিতি একবার পাশে থাকা ছেলেটির দিকে তাকিয়ে ভাবলো, এই ছেলে টাকে সে কেন বিয়ে করছে? শুধুই তার বাবা
-মা কে খুশি করতে? আচ্ছা আজো কি আয়ান অদিতির জন্যে অপেক্ষা করছে? অদিতি চিন্তায় ছেদ পরলো যখন পাশের ছেলেটি বলে উঠলো,"অদিতি আজ তো ২১শে ফেব্রুয়ারী চলো পার্ক থেকে ঘুরে আসি" কথাটা শুনেই আদিতি কিছুটা নেড়েচড়ে বসলো।


ওর মনে পড়লো, আজ তো ২১শে ফেব্রুয়ারী, ১০বছর আগে আয়ান তাকে বলেছিল আমি তোমার উত্তরের জন্য প্রতি বছর এই দিন এই পার্কে অপেক্ষা করবো,আজ কি তাহলে আয়ান তার অপেক্ষা করছে?"অদিতির মনের চাপা পড়ে থাকা অনুভূতি গুলো চিত্‍কার করে বলছিল, অদিতি খুঁজে বের কর তোর আয়ানকে, বলে দে না বলা সব কথাগুলো''
অদিতি আর কিছু ভাবলো না। শেষ চেষ্টার উদ্দেশ্যে সে চলে গেল গাড়ির দিকে। গাড়ি নিয়ে ছুটতে লাগলো সে পার্কের দিকে এক ক্ষীন আশা নিয়ে। কিন্তু পার্ক এর সামনে গিয়ে দেখলো, পার্ক টা ১০ বছর আগের মতো নেই সম্পূর্ন পালটে গেছে। দিশেহারার মতো অদিতি ভাবতে লাগলো এত বড় পার্কের কোথায় পাবে আয়ান কে? আর আয়ান কি এসেছে যে ওকে খুঁজে পাবে সে?

সন্ধ্যা হতে চলেছে আয়ান তবুও বসে আছে ফুল নিয়ে। আয়ান জানে তার প্রতি বছর এভাবে অপেক্ষা করা অনর্থক। অদিতি হয়তো এখন সুখে সংসার করছে অন্য কারো সাথে। তার যদি আসাই লাগতো সে অনেক আগেই আসতো। তবুও কেন জানি আয়ান জেনে শুনে এই অনর্থক কাজটা করেই চলেছে। আজই শেষ; ধরে নেবে, হয়তো তার ভাগ্যে ভালবাসা পাওয়াটাই ছিল না।

আয়ান বসে বসে এসব ভাবতে লাগলো। সে পাশে রাখা ফুল আর তার নিচে চেপে রাখা চিরকুটটার দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো,সত্যি হয়তো আমার ভাগ্যে তুমি নেই অদিতি, সবাই তো ভালবাসা পায় না, কেউ পায়, কেউ পায় না আর কেউ পেয়ে হারায়, আমার অপেক্ষার সময় শেষ এখন আমার যেতে হবে চলে
" আর তখন হঠাত্‍এক দমকা হাওয়ায় উড়ে গেল আয়ানের সেই ছিরকুকটি। আয়ান তার পিছে ছুটতে লাগলো।


অদিতি অনেক্ষন চারপাশ খুঁজে কোথাও আয়ানকে পেল না। সে ক্লান্ত হয়ে একটি বেঞ্চে বসে নিজেকে বলতে লাগলো, অদিতি তোর দোষে এই ভালবাসাটা পেয়ে হারিয়েছিস, তোর ভাগ্যে হয়তো ছিল না আয়ান। হঠাত্‍অদিতির পায়ের উপর উড়ে আসলো একটি কাগজের টুকরা। সে সেই কাগজের টুকরাটা তুলে তার ভাঁজ খুলতেই তার সব কিছু অন্যরকম হয়ে গেল। হয়তো আদিতির ভাগ্য এই খেলাটাই খেলতে চেয়েছিল। কাগজটি তে অদিতির হাতের লেখায় লেখা ছিল,
 

Destiny meets destiny....

luck meets luck....
 

i met u....

nd fell in love....

আর তখনই পিছে থেকে এক জন অদিতি কে বললো,excuse me ,চিরকুটটা আমার
....

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন